Loading...

মমতার আমলের কার্নিভাল বন্ধ, মহালয়ের দিনে ইডেনে বিরাট শো, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

  • admin

  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩:৪১

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মমতা ব্যানার্জির আমলে রেড রোডে দুর্গাপুজোর যে কার্নিভালের আয়োজন করা হত, সেই কার্নিভালে ইতি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর ঘোষণা, মহালয়ার দিনে ইডেনে বড় ইভেন্টের মাধ্যমে রাজ্যে দুর্গাপুজোর উদ্বোধন হবে রাজ্যে।

সোমবার রাজ্যের পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টে থেকে মিলনমেলা প্রাঙ্গনে মুখ্যমন্ত্রীর পুজো-বৈঠক শুরু হয়। কী হবে পুজোর গাইডলাইন? কোন পুজো কমিটি পাবে সরকারি অনুদান? কবে হবে পুজোর বিসর্জন?  মুখ্যমন্ত্রীর পুজো-সমন্বয় বৈঠকে এই সব নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ADVERTISEMENT

বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে দুর্গাপুজো পালনের আহ্বান জানিয়েছে রাজ্য সরকার। পুজোর অনুমতির জন্য উদ্যোক্তাদের যাতে আদালতের দ্বারস্থ হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার কথাও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে পুজো পরিচালনায় প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

মহালয়ার দিন কলকাতার ইডেন গার্ডেনে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের সূচনা হবে। চার ঘণ্টার এই অনুষ্ঠানে ড্রোন শো, সমন্বিত আতশবাজি, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আলোকসজ্জা ও ভিজ্যুয়াল এফেক্ট থাকবে। শহরজুড়ে রোড শো এবং ব্র্যান্ডিংয়েরও পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করবে। কলকাতার চারটি ঘাটেও দু’দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাজসজ্জার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুজোর অনুমতি সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে সহজ পোর্টাল চালুর কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রবীণ, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, বৃদ্ধাশ্রম ও বিভিন্ন আশ্রমের আবাসিকদের পুজো পরিক্রমার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করতে আন্তঃদফতরীয় টিম গঠন করা হবে। পরিস্থিতি নজরে রাখতে ডিজিটাল মনিটরিং এবং নিয়মিত সমন্বয় বৈঠকের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

সেরা প্রতিমা, মণ্ডপ, পরিবেশবান্ধব পুজো, জনসমাগম ও ভিড় ব্যবস্থাপনা, মৃৎশিল্পী-সহ বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিচারক বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সাংস্কৃতিক ও শাস্ত্রীয় জ্ঞানসম্পন্ন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু। বিসর্জনের ক্ষেত্রেও প্রতিমার পবিত্রতা ও ঐতিহ্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ক্রেন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের পদ্ধতি থেকে সরে এসে প্রতিমার মর্যাদা বজায় রাখার নির্দেশ থাকবে।

অন্যদিকে, পুজোকে কেন্দ্র করে যান চলাচল ও জননিরাপত্তার বিষয়েও একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মহালয়ার আগে দেবীপক্ষ শুরু হওয়ার পূর্বে পুজো বা উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজয়া দশমীর বিসর্জনের ক্ষেত্রে পঞ্জিকা মেনে চলার পাশাপাশি ঘাট ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার কথা মাথায় রেখে একটি নির্দিষ্ট ‘কাট-অফ’ তারিখ রাখা হবে।

শুভেন্দু ঘোষণা, “বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়া হবে। কোনও লাইসেন্সের ঝামেলা থাকবে না। মন খুলে পুজো করুন। কিন্তু অনুদান দেওয়া নিয়ে একটু আপত্তি আছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে দিয়েছিলেন সেটি দৃষ্টিকটূ। যাদের প্রয়োজন তাদেরই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। বড় বাজেটের পুজোগুলিকে অনুরোধ, পুজোয় সরকারি আর্থিক সাহায্য নেবেন না। যাদের এই টাকা না হলে পুজো করতে পারবেন না তাদের সরকার এক লক্ষ টাকা করে দেবে। থানা পর্যায়ে আবেদন করতে হবে। সেখানেই যাচাই করে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো হবে। মুখ্যসচিব অর্থ দপ্তরে পাঠিয়ে দেবে। ষষ্ঠীর আগে টাকা দিয়ে দেওয়া হবে।”

ADVERTISEMENT