আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঁচ শতাব্দীর বেশি সময় ধরে টিকে থাকা কোচবিহারের বড়দেবী পুজো আজও রহস্য ও রোমাঞ্চের আবরণে মোড়া। এখানে দেবী দুর্গা পূজিতা হন ‘বড়দেবী’ রূপে। স্থানীয় বিশ্বাস, দেবী মানুষের রক্তের স্বাদ পেলে তবেই পুজো সম্পূর্ণ হয়। তাই একবিংশ শতাব্দীতেও এই পুজোয় চলে বিশেষ আচার। যা এই পুজোকে অন্য দুর্গাপুজোর থেকে আলাদা করে পরিচিত করেছে।
শ্রাবণ মাসের শুক্লা অষ্টমীতে এই পুজোর সূচনা হয়। ভাঙ্গরাই মন্দির থেকে ময়না গাছের ডাল এনে তা মহাস্নান করিয়ে এই প্রতিমার মেরুদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এরপর চলে এক মাসব্যাপী বিশেষ পুজো। যেখানে পায়রা বলির প্রচলন রয়েছে। এই প্রথার সূত্রপাত ১৫১০ খ্রিস্টাব্দে। মহারাজা বিশ্বসিংহের হাতে। বিশ্বাস করা হয়, দেবীর আশীর্বাদে তিনি শত্রুকে পরাজিত করে কোচবিহারের সিংহাসনে আসীন হন। পরবর্তী সময়ে মহারাজা নরনারায়ণ স্বপ্নাদেশ পেয়ে দশভুজা দুর্গামূর্তির প্রচলন করেন। লোকে বলে, রাজপরিবারের সেনাপতি চিলা রায় যখন রাজ সিংহাসন দখল করতে উদ্যোগী হয় তখন দেবী দুর্গা স্বয়ং রাজাকে রক্ষা করেন। আজও সেই বিশ্বাস অটুট রাজ পরিবার ও সাধারণ মানুষের মনে। দেবীর অলৌকিক মূর্তি দর্শনের গল্পে গড়ে ওঠে বড়দেবীর পুজোকে ঘিরে নানা কাহিনী।
