Loading...

দুর্গাপুজোয় এই প্রথম আদানি গোষ্ঠীর বড় চমক! উৎসবের আগেই উঠবে 'পর্দা', নতুন আকর্ষণ হতে চলেছে ভিআইপি 'প্রিভিউ'

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুটা দেরি। সাধারণ দর্শনার্থীর পুজো পরিক্রমা শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য কলকাতার দুর্গাপুজোকে অন্যভাবে দেখার সুযোগ তৈরি হতে চলেছে। মহালয়ার পরেই শহরের নির্বাচিত কয়েকটি পুজোকে ঘিরে বিশেষ ‘প্রিভিউ’ আয়োজন করতে চলেছে আদানি গোষ্ঠী। ২০২৬ সালে প্রথমবার এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে আদানি গোষ্ঠী এবং প্রশাসনিক সূত্রের। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের অনুমতি মিলেছে।

পরিকল্পনাটি খানিকটা পুজোর ‘পর্দা ওঠার’ আগের দৃশ্যের মতো। সাধারণ মানুষের ঢল নামার আগে, পুজোর প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, তখনই আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরা হবে শহরের বাছাই করা আটটি পুজো। ১০, ১১ ও ১২ অক্টোবর, অর্থাৎ মহালয়ার পরপরই তিন দিন চলবে এই প্রিভিউ। সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৪টে। এরপর পুজোর মূল দিনগুলিতে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উৎসবের স্বাভাবিক আয়োজন চলবে।

ADVERTISEMENT

দুর্গাপুজো মানেই কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল। প্যান্ডেল, প্রতিমা, আলোকসজ্জা, শিল্পকর্ম—সব মিলিয়ে শহর তখন কার্যত এক বিশাল প্রদর্শনীর চেহারা নেয়। সেই ভিড় শুরু হওয়ার আগেই নির্বাচিত পুজোগুলির শিল্পভাবনা ও আয়োজন দেখানোর লক্ষ্য নিয়েই এই প্রিভিউয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

তবে এই আয়োজন সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে না। আমন্ত্রণের ভিত্তিতেই প্রবেশের সুযোগ থাকবে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের পাশাপাশি সরকারি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সংবাদমাধ্যম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিক্ষাবিদ, পড়ুয়া, কর্পোরেট ক্ষেত্রের প্রতিনিধি, পুজো উদ্যোক্তা এবং শিল্প-সংস্কৃতির অনুরাগীদের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রবেশের জন্য কোনও টাকা লাগবে না।

শুধু পুজো দেখানোই নয়, এই উদ্যোগের সঙ্গে আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও যুক্ত থাকছে। নির্বাচিত আটটি পুজো এবং তাদের কিউরেটিং শিল্পীদের অনুদান দেবে আদানি গোষ্ঠী। সংস্থার বক্তব্য, এর মাধ্যমে পুজোর প্রস্তুতি ও শিল্পভাবনার পাশাপাশি রাজ্যের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষদেরও সারা বছর উপকারের সুযোগ তৈরি হবে।

কোন আটটি পুজো এই তালিকায় থাকবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচন করা হবে। মহালয়ার মধ্যে প্রস্তুতি শেষ করার সক্ষমতা, পুজোর অবস্থান, ব্যবস্থাপনা, নান্দনিকতা, জননিরাপত্তা এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার মতো বিষয়গুলি বিবেচনা করা হবে।

তবে প্রিভিউয়ে প্রবেশও হবে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায়। QR কোডের মাধ্যমে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে। নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে আবেদন করে প্রবেশের অনুমতি নিতে হবে। পুরো ডিজিটাল অ্যাক্সেস এবং প্রবেশ-পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে আয়োজকদের হাতে।

আদানি গোষ্ঠীর পরিকল্পনায় এই প্রিভিউকে শুধুমাত্র তিন দিনের অনুষ্ঠান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। নির্বাচিত পুজোগুলিকে শিল্প, ঐতিহ্য, আয়োজন ও আতিথেয়তার ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি কলকাতা ও বাংলার দুর্গাপুজোকে দেশ-বিদেশের আমন্ত্রিত অতিথিদের সামনে তুলে ধরার লক্ষ্য রয়েছে।

ফলে এ বার পুজোর ক্যালেন্ডারে যোগ হচ্ছে একটি নতুন অধ্যায়—সাধারণের পুজো শুরু হওয়ার আগেই আমন্ত্রিতদের জন্য পুজো দেখার তিন রাত। মহালয়ার পর কলকাতার নির্বাচিত আটটি পুজোকে ঘিরে সেই ‘প্রিভিউ’-তেই এবার তৈরি হবে উৎসবের প্রথম ঝলক।

ADVERTISEMENT

  • সম্পাদনা:

    admin