Loading...

কেউ দুর্গা আবার কেউ অসুর, 'জ্যান্ত' প্রতিমার পুজো করলেন মন্ত্রী 'স্বপন দাদু', ফাঁক পেয়ে পালিয়ে গেল আসল হাঁস

আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোধন থেকেই শুরু হয়েছে পাঁচদিনের আনন্দ উৎসব। এই সময় আমজনতা সারা বছরের দু:খ, যন্ত্রণার উপশম খোঁজেন। চেষ্টা করেন আনন্দের স্রোতে গা ভাসাতে। আর নেতা, মন্ত্রীরা খোঁজেন জনসংযোগের নতুন নতুন 'আইডিয়া'।

ADVERTISEMENT

আবার যদি আইডিয়ার কথা ধরা হয় তবে সেক্ষেত্রে রাজ্যের প্রাণী সম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথকে টেক্কা দেওয়া 'মুশকিল হি নেহি না মুমকিন হ্যায়'। যখন তিনি মন্ত্রী এমনকি বিধায়ক ইস্তক ছিলেন না তখন থেকেই গোটা পূর্বস্থলীর ভাগীরথীর অববাহিকা তাঁর চষা।

আরও পড়ুন

কোথায় নেই তিনি? খালবিল উৎসব,কৃষি মেলা, যাত্রা উৎসবে উদ্বোধন করতে এসে নিজেই নেমে পড়া। তাঁত হাট, ক্লাস্টার থেকে জৈব প্রযুক্তিতে কৃষিবিকাশের নিরীক্ষা। অনাথ আশ্রম,বৃদ্ধাবাস থেকে রাস্তার কুকুর বিড়াল নিয়েও তাঁর রয়েছে নানাবিধ কর্মকান্ড। যাকে বলে একেবারে পাঁচ মিশালি গল্প। 

এই গল্পটা কিন্তু অন্যরকম। পঁচিশ বছর আগে গড়া একেবারে প্রত্যন্ত গ্রামের অনাথ আশ্রমে ষষ্ঠীর দিন 'জ্যান্ত' দুর্গার পুজো করলেন মন্ত্রী স্বপন। আবাসিক মেয়েরাই কেউ দুর্গা, কেউ অসুর সেজেছে। সরস্বতীর হাঁস আবার জলে নেমে আর দেবীর কাছে ফিরে আসেনি। মওকা বুঝে একেবারে টুক করে হাওয়া। অন্যদিকে দুর্গা খুবই মৃদুভাষী, কোমলপ্রাণা। চোখে স্নেহের ছাপ। জবরদস্ত, প্রগলভ অসুর খুব ছটফটে। তবে এইসব শিশুদের প্রত্যেকের প্রিয় কিন্তু 'স্বপন দাদু'। অন্য নেতারা যখন কাঁচি হাতে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরছেন তখন এখানে চারদিন আটকে থাকছেন ব্যস্ত রাজনীতিক স্বপন। তাঁর ছুটি নেই। এতটাই তাঁর চাহিদা! এই পুজো দেখতে এসে টলিউড অভিনেত্রী ঝিলিক মুদ্ধ। জানালেন, এই পরিবেশ তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তবে তিনি আশাবাদী 'মক ফাইট'-এ নয়, আসল যুদ্ধে অসুর হেরে যাবেন। 

খুশি পূর্ব বর্ধমানের জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহারও। জানালেন, এখানে একবার না এলে পুজো ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কাল থেকে তিনিও গ্রামের পুজোয় আড্ডা দেবেন। আর হ্যাঁ, সুতির শাড়ি পেয়ে কিন্তু ভীষণ খুশি সুমি মুর্মুরাও।

ADVERTISEMENT