ফুচকা-চাট নাকি পিৎজা-বার্গার, পুজোয় কোনটা-কতটা খাবেন? বেশি খেলেই মারাত্মক বিপদ
দুর্গাপুজো মানেই দেদার খানাপিনা। পুজোর ক’দিন ঘরে-বাইরে চলতে থাকে জমিয়ে খাওয়া-দাওয়া। উৎসবের দিনগুলোতে ডায়েট মেনে চলতে রাজি থাকেন না কেউই। তাই সারাবছর যতই ওজন বেড়ে যাওয়ার চোখরাঙানি থাকুক, পুজোয় বিধিনিষেধ মানতে ক'জনই বা চান!
দুর্গাপুজোর আমেজের সঙ্গে ভোজনরসিক বাঙালির সম্পর্ক যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে বিরিয়ানি, রোল, চাউমিন, ভিন্ন স্বাদের মিষ্টি, রকমারি পানীয়– কিছুই বাদ পড়ে না এই দিনগুলোয়। তবে সবকিছুর মাঝে স্ট্রিটফুড বিশেষত ফুচকা, চাট যেন বিশেষ জায়গা করে নেয়। কারওর আবার পিৎজা, বার্গারের মতো কন্টিনেন্টাল খাবারই বেশি পছন্দ।
ADVERTISEMENT
পুজোর সময়ে ফুচটার স্টলগুলিতে ভিড় থাকে প্রচুর। প্যান্ডেল হপিংয়ের মাঝে ফুচকা খাওয়া ছবি নজরে আসে। ঝাল ঝাল আলুর পুর ভরা ফুচকার স্বাদে মজেন আট থেকে আশি। তবে দেদার ফুচকা খেলে সমস্যায় পড়তে পারেন। অনেকেই ফুচকা খেলে অম্বলের সমস্যাতে ভোগেন। এছাড়াও টাইফয়েড, বমি, ডায়রিয়া, অন্ত্রে প্রদাহ হতে পারে।
পুজোর সময়ে ভেলপুড়ি, পাপড়িচাট স্টলেও বেশ ভিড় দেখা যায়। রাস্তার ফুটপাতে তৈরি হওয়া জিভে জল আনা চাটের হরেক রকম পদগুলি কতটা স্বাস্থ্যকর ও অস্বাস্থ্যকর, তা নিয়ে বিতর্ক বহুকালের। তাছাড়া এই ধরনের খাবার কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে তৈরি করা হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকেই। আসলে চাটে যে তেঁতুলের গাঢ় টক-ঝল-মিষ্টি স্বাদের চাটনি দেওয়া হয়, অনেকের ধারণা সেটি আদতে চিনির গোলা। ফুচকা বা পাপড়িচাটে ব্যবহৃত উপকরণগুলি ডিপ ফ্রাই ও অনেকদিনের তেলে ভাজার কারণে তা অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে।
ADVERTISEMENT
আজকাল পিৎজা, বার্গার প্রেমীদের সংখ্যা বেশ বেড়েছে। দুর্গাপুজো হোক কিংবা খ্রীস্টমাস, অনেকে সারাবছরই ভালবাসেন এই ধরনের কন্টিনেন্টাল খাবার। যদিও পিৎজা প্রীতিকে একবারেই ভাল চোখে দেখেন না বিশেষজ্ঞরা। আসলে পিৎজা নুন, তেল এবং মশলার ভাণ্ডার। তাই বেশি খেলে পেটের সমস্যা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে প্রেশার, সুগার বাড়ার আশঙ্কা থাকে। সঙ্গে হানা দিতে পারে অনেক জটিল রোগও।
বার্গারের মূল উপাদান হচ্ছে ব্রেড অর্থাৎ পাউরুটি। বার্গার পাউরুটি হাইপ্রসেসড ফুড। এর সঙ্গে মাখনের ট্রান্স ফ্যাট, বার্গার ফিলিংয়ের হাই স্যাচুরেটেড ফ্যাট যুক্ত হলে ক্ষতির পরিমাণ কী দাঁড়ায় নিজেই অনুমান করে নিন। হাইপার টেনশন, শ্বাসনালীর সমস্যা, স্থূলতা, ক্যানসার, ডায়াবিটিসের মতো রোগের ঝুঁকি আরও বাড়ে।
ADVERTISEMENT
তাই বলে কি পুজোয় সাধের খাবার খাবেন না! একেবারেই নয়, মন ভরে খান ফুচকা, চাট হোক কিংবা পিৎজা, বার্গার। তবে স্বাস্থ্যের কথা ভুললে চলবে না কিন্তু!
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT