সোমবার এই নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মঙ্গলবার দিলীপ ঘোষের পর বাগেশ্বর বাবার ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য নিয়ে মুখ খুললেন অগ্নিমিত্রা পাল।
ADVERTISEMENT
তাঁর সাফ বক্তব্য, বাইরে থেকে কারোর পক্ষে বাংলার সংস্কৃতি বোঝা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, ‘যে কেউ বাইরে থেকে এসে তো বুঝবে না যে এখানে আমাদের বাঙালিদের কেমন কালচার। অন্য রাজ্যে এই দুর্গাপুজোর সময় ন’দিন পুজো হয়। নবরাত্রির যে পুজো, সেখানে সবাই নিরামিষ খায়।’
অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘তিনি যদি মনে করে থাকেন যে এখানেও সেই কালচার চলবে, সেটা তো হতে পারে না। আমরা সারা বছর টাকা-পয়সা জমাই। যাতে পুজোর চারদিন কব্জি ডুবিয়ে মাংস, ইলিশ মাছ খেতে পারি।’
তাঁর বক্তব্য, রাজ্যে রাজ্যে কালচারটা আলাদা। তাঁর কথায়, ‘তিনি যেটা জানেন সেটা তিনি তাঁর মত করে বলেছেন। তিনি জানেন না যে এখানে কালচারটা সেরকম নয়। আমি বারবার বলেছি যে, আমরা কী খাব-কী পোশাক পরব, কখন বেরোব, কখন বাড়ি ঢুকব এটা কেউ বলে দেবে না।’
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাগেশ্বর বাবাকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষও। তাঁর দাবি, বাবা কি বলতে পারবেন ওঁর ভক্তরা মাছ-মাংস খান না?
বিজেপি বিধায়কের কথায়, ‘আমি মাছ ছাড়া কিছু খাই না। কিন্তু যে যা খেতে চায় তাই খাবে। পশ্চিমবঙ্গে দুর্গা পুজোয় পাঁঠা বলি হয়। সেই মাংস প্রসাদ হিসেবে খাওয়া হয়। এখানে পাঁঠা খাওয়া, মাংস খাওয়া এগুলো বিতর্কের বিষয় নয়।’
দিলীপের বক্তব্য, ‘অনেক সাধু-সন্ত বলে থাকেন নিরামিষ খাওয়া ভাল। কিন্তু তা নিয়ে কিছু বলার নেই। যারা বাগেশ্বর বাবার কাছে যান, উনি কি বলতে পারবেন তাঁরা মাছ খান না বা মাংস খান না?’
দিলীপ ঘোষের দাবি, সাধুরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলে থাকেন যে নিরামিষ খাওয়া স্বাস্থ্যের পক্ষে ভাল। স্বামী বিবেকানন্দের প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ জানান, ‘বিবেকানন্দ বলেছিলেন, যতদিন দেশ থাকবে মা-কালী পাঁঠা খাবেন, শিব ডমরু বাজাবেন।’