আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে শুধু আলোকসজ্জা কিংবা চোখধাঁধানো থিম নয়, এবার ইতিহাস, সনাতন ঐতিহ্য এবং বিজ্ঞানের মেলবন্ধন তুলে ধরার উদ্যোগ নিউটাউনে। এবারের অভিনব ভাবনা ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’। নবপ্রজন্মের কাছে প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান, বিজ্ঞানচর্চা এবং আধুনিক প্রযুক্তির যোগসূত্র তুলে ধরাই এই থিমের মূল লক্ষ্য বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে নিউটাউনের সনাতনী দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক তথা মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। তাঁর নেতৃত্বেই এবার এই পুজোর আয়োজন হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে শেষবার এই দুর্গাপুজো হয়েছিল। এরপর কয়েক বছর বন্ধ থাকার পরে ফের নতুন করে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবেই এতদিন পুজো করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে সেই সমস্যা মিটেছে। তাই বিশ্ববাংলা গেটের কাছে ফের শুরু হচ্ছে এই পুজো। ১৩ অক্টোবর থেকে মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে পুজোর আগেই ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’ থিমের প্রদর্শনী ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সুব্রত গুপ্ত বলেন, “দুর্গাপুজো আয়োজন করতে প্রশাসন ও পুলিশের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। অতীতে কিছু সমস্যা ছিল। বর্তমানে তা মিটে যাওয়ায় ফের পুজো করা সম্ভব হচ্ছে।”
তবে এবারের পুজোর মূল আকর্ষণ হতে চলেছে ‘সনাতন থেকে বিজ্ঞান’। সুব্রত গুপ্তের কথায়, প্রাচীন ভারতীয় সভ্যতার সঙ্গে বিজ্ঞানচর্চার সম্পর্ক এবং সেই জ্ঞান কীভাবে পরবর্তী সময়ে আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, “প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চার নানা দিককে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। শূন্যের ধারণা, দশমিক পদ্ধতি, আয়ুর্বেদ, যজ্ঞবেদি নির্মাণে গাণিতিক জ্ঞান-সহ প্রাচীন ভারতের বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয় প্রদর্শনীর মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।” তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমের বিজ্ঞানের সঙ্গে ভারতীয় জ্ঞানচর্চার কোনও সংঘাত দেখানো এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য নয়। বরং প্রাচীন ভারতীয় জ্ঞান ও বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাসকে সামনে আনাই লক্ষ্য।”
পুজো কমিটির সদস্যদের দাবি, শুধু ধর্মীয় আচার বা মণ্ডপসজ্জা নয়, দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে একাধিক বিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনী। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর বিজ্ঞান প্রদর্শনীর উদ্বোধন হওয়ার কথা। ইসরোর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে একটি প্রদর্শনীর পরিকল্পনাও রয়েছে। মহাকাশ গবেষণা নিয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর বিশেষ প্রদর্শনী হবে। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের আদলে মহাকাশবিজ্ঞানভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের।
সুব্রত গুপ্ত আরও জানান, “দুর্গাপুজোর ধর্মীয় পরিবেশ এবং আচার-অনুষ্ঠান অক্ষুণ্ণ রেখেই বিজ্ঞান ও ইতিহাসকে সামনে আনা হবে। বিশ্বশান্তির কামনায় যজ্ঞের আয়োজনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লোকসংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদেরও নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।”
উদ্যোক্তাদের দাবি, ইতিহাস ও বিজ্ঞান নিয়ে নানা ধরনের বিতর্কের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাচীন ভারতের জ্ঞানচর্চার ধারাকে সহজভাবে তুলে ধরাই এই পুজোর অন্যতম উদ্দেশ্য। একদিকে সনাতন ঐতিহ্য, অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—দুইয়ের মেলবন্ধনেই এবার নিউ টাউনের দুর্গাপুজোয় তৈরি হতে চলেছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।